নজরকে সাধারণত তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়।
তবে এই বিভক্তিকরণ সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়। কিন্তু প্রতিটি প্রকারের জন্য আলাদা আলাদা দলিল কুরআন ও সুন্নাহতে পাওয়া যায়।
নজর তিন প্রকার
১️⃣ العين المعجبة
আল-আইনুল মুজাবা (আকৃষ্ট নজর)
যখন কোনো ব্যক্তি আল্লাহ প্রদত্ত কোনো নিয়ামত দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়, তখন সেই নিয়ামত আল্লাহর হুকুমেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—যদি সে নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য বরকতের দোয়া না করে।
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
وَلَوْلَآ إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَآءَ ٱللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِٱللَّهِ
“তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন কেন বললে না—
মাশা’আল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ?”
— (সূরা কাহাফ: ৩৯)
হাদীসে এসেছে—
إذا رأى أحدكم من أخيه ومن نفسه ومن ماله ما يعجبه فليبركه فإن العين حق
অর্থঃ
তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের মধ্যে, নিজের মধ্যে বা তার সম্পদের মধ্যে এমন কিছু দেখে যা তাকে মুগ্ধ করে, তখন সে যেন বরকতের দোয়া করে। কারণ নজর সত্য।
— সহিহ হাদিস (আলবানী)
ইমাম ইবনে হাজার رحمه الله বলেনঃ
এটিও আকৃষ্ট নজরের অন্তর্ভুক্ত, যদিও এতে হিংসা না থাকে। এমনকি প্রিয়জন বা সৎ ব্যক্তির পক্ষ থেকেও হতে পারে। তাই কেউ যদি কোনো কিছু দেখে মুগ্ধ হয়, তাহলে তার জন্য বরকতের দোয়া করা উচিত। এই দোয়াই ঐ নজরের চিকিৎসা হিসেবে গণ্য হবে।
২️⃣ العين الحاسدة
আল-আইনুল হাসিদাহ (হিংসুকের নজর)
এটি হিংসা থেকে জন্ম নেওয়া নজর। সাধারণত নিকৃষ্ট বা হিংসুক মানুষের অন্তর থেকে এই নজর বের হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—অন্যের উপর থাকা আল্লাহর নিয়ামত দূর হয়ে যাক।
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ ٱلْكِتَٰبِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّنۢ بَعْدِ إِيمَٰنِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم
অর্থঃ
আহলে কিতাবের অনেকেই চায়—তারা যেন তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কুফরির দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে, তাদের অন্তরের হিংসার কারণে।
— (সূরা বাকারা: ১০৯)
৩️⃣ العين القاتلة
আল-আইনুল কাতিলা (বিষাক্ত নজর)
এটি এমন নজর যা নির্দিষ্টভাবে কাউকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। তখন সেই নজর নজরকারীর কাছ থেকে বের হয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপর প্রভাব ফেলে।
বর্ণিত আছে, আরবের এক ব্যক্তি ছিল যে দুই-তিন দিন না খেয়েও থাকতে পারত। একদিন সে তার তাঁবু থেকে বের হয়ে উট ও মেষপালের দিকে তাকিয়ে বলল—
“আজকের আগে এত সুন্দর উট ও মেষপাল আমি দেখিনি।”
অল্প দূর যেতেই সেই পশুগুলোর কয়েকটি মাটিতে পড়ে যায়।
পরবর্তীতে কিছু কাফির পরিকল্পনা করেছিল এই লোকটির মাধ্যমে রাসূল ﷺ-কে নজরে আক্রান্ত করাবে। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলকে তাদের চক্রান্ত থেকে হিফাজত করেছেন।
📚 (শাইখ খালিদ আল-হিবশী’র একটি আর্টিকেল থেকে অনুবাদ)